বেপরোয়া বোগদাদ পরিবহন, বিগত বছরগুলোতে দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ রেকর্ড

 

ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগ্রহীত

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বোগদাদ পরিবহনের বেপরোয়া চালনা এবং একক আধিপত্য যাত্রীদের জন্য গুরুতর আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গত পাঁচ বছরে এই পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘটিত একাধিক দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, বোগদাদ পরিবহনের চালকরা প্রায়ই নিয়ম না মেনে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাস চালান, যার ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বোগদাদ পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘটিত কিছু উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা:

•৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১: শাহরাস্তির মৌতাবাড়ি এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে গেলে দুই যাত্রী নিহত হন।
•৩ ডিসেম্বর ২০২১: হাজীগঞ্জের বলাখাল ধেররা এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন।
•৫ মে ২০২২: হাজীগঞ্জের গোগরা এলাকায় বোগদাদ পরিবহনের বাসের চাপায় একটি তিন বছরের শিশু ইভা নিহত হয়।
•২১ নভেম্বর ২০২২: চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাট এলাকায় বাসের ধাক্কায় শিক্ষিকা নাজমা আক্তার (৫৫) নিহত হন।
•২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩: ঘোষেরহাট এলাকায় বাস ও সিএনজির সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন।
•২৩ ডিসেম্বর ২০২৪: হাজীগঞ্জের বাকিলা পূর্ব বাজার এলাকায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী হারুন অর রশিদ নিহত হন।

এখন, শুধুমাত্র বোগদাদ পরিবহনই এই রুটে আধিপত্য বিস্তার করেছে, এক সময় যেখানে ঈগল সুপার, আজমির এবং রিল্যাক্স পরিবহনও চলাচল করত, সেখানে আজ তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে, বোগদাদ পরিবহনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অন্য পরিবহন সংস্থাগুলো কার্যক্রম চালাতে পারছে না, যা স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি, চাঁদপুরের মালিকানাধীন নতুন পরিবহন আইদি পরিবহন চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের জন্য রোড পারমিট পেয়েও কুমিল্লায় প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে দুই পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, বোগদাদ পরিবহনের বেপরোয়া চালনা বন্ধ করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নতুন পরিবহনগুলোর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে যাত্রীসেবা উন্নত হয়।

বোগদাদ পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা একক আধিপত্য বিস্তার করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোর রুট পারমিট বন্ধ করে দিচ্ছে, যার ফলে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। বোগদাদ পরিবহনের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময়ে, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তুলেছে স্থানীয়রা।