সাবেক এমপি মেজর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে নেমেছে দুদক


সাবেক সংসদ সদস্য, চাঁদপুর-৫ আসনের (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) এলাকার নির্বাচিত এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম)-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  

দুদকের চাঁদপুর জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় মেজর রফিকুল ইসলামকে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

দুদকের নথি অনুযায়ী, মেজর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:  
১. ক্ষমতার অপব্যবহার: রাস্তা নির্মাণ ও নদী খনন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ।  
২. সরকারি প্রকল্পের অর্থ পাচার: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ।  
৩. আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন: নামে-বেনামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।  

দুদকের পক্ষ থেকে মেজর রফিকুল ইসলামকে নোটিশ পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হলে অভিযোগ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে ধরে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।  

চাঁদপুর জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, "আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে মেজর রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা না দিলে, আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ২২ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ৮/১১ অনুসারে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।  

এ বিষয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম বা তার কোনো ঘনিষ্ঠজনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তার অনুসারীরা দাবি করছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তারা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন।  

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বৈধ প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের করা হবে। প্রয়োজনে সম্পদ জব্দের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।  

এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে এই অনুসন্ধান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।